স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিকল্প ভেন্যুর প্রয়োজনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজে হাত দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে পর্যটন কর্পোরেশনের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৯.২৫ একর খাস জমি দখলে নিয়ে নেয় নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিশাল এই জায়গাটি বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে, মাঠোন্নায়ন করে একটি অস্থায়ী ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ১টি আউটার ক্রিকেট মাঠ এবং ১টি অনুশীলন মাঠ তৈরির পাশাপাশি স্টিল স্ট্রাকচারের প্লেয়ার্স ড্রেসিংরুম, প্যাভিলিয়ন নির্মাণসহ আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত করেছে বিসিবি।
তবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এতো বড় ক্রিকেট স্থাপনার দখল নিয়েছিল বিসিবি, সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্সকে বিবেচনা করেনি আইসিসি। এমনকি এই জায়গাটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দও নিতে পারেনি বিসিবি। তবে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের ৮টি ওডিআই, ৮টি টি-টোয়েন্টি, ১৪টি ইয়ুথ ওডিআই এবং ১টি ইয়ুথ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে হয়েছে ৯টি ম্যাচ। এই স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ২টি মাঠ থাকায় প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট জাতীয় লিগের নিয়মিত ভেন্যু এখন এটি।
২০১৭ সালের মার্চে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনি পয়েন্টে ৭৬৮ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৪৯.২৫ একর জায়গামাত্র ১ লাখ ১ হাজার টাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা দলিল করে হস্তান্তর করে। এতো বড় জায়গা নামমাত্র মূল্যে পেয়ে এখানে পরিকল্পিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এনএসসি। দক্ষিণ দিকে সমুদ্র সৈকত এবং ঝাউ বনের অবস্থান আছে বলেই প্রস্তাবিত ফুটবল এবং ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নকশায় দক্ষিণ পাশটি গ্যালারিহীন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সে কারণেই স্টেডিয়াম দুটির ধারণক্ষমতা মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম এবং ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের চেয়ে কম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্লাড লাইট, জায়ান্ট স্ত্রিন, চেয়ারসহ আধুনিক সব সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন ২২ হাজার আসনবিশিষ্ট একটি সুদৃশ্য ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ২১ হাজার আসনবিশিষ্ট ১টি ফুটবল স্টেডিয়াম, একটি অনুশীলন মাঠ, ১টি ইনডোর স্টেডিয়াম, ১৪তলা ৫তারা হোটেল, একটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনে ১ হাজার ৯শত ২১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্প তৈরি করে এনএসসি। ২০২১ সালে এই প্রকল্পের উপযোগিতা যাচাই করে ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছে ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্ল্যানিং এবং প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড নামের ২টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। পরামর্শক এই দুটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে এনএসসি খরচ করেছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
পরবর্তীতে সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের অনাপত্তি পেয়ে কক্সবাজারের ট্যুরিজমকে আকর্ষণীয় করতে ২০২৩ সালে সাম্পানের আদলে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের নকশা অনুমোদন করে প্রাক্কলিত ব্যয়ও নির্ধারণ করেছে এনএসসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ। যুবও ক্রীড়া মন্ত্রানালয়কে ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) দিয়েছে তারা। তবে পরবর্তীতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজে অগ্রগতি হয়নি। নকশায় পরিবর্তন এনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএসসির বিশ্বস্ত একটি সূত্র।
কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ক্রিকেট প্যাভিলিয়ন এবং ড্রেসিংরুমের অবস্থা এখন করুণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে নতুন করে অস্থায়ী প্যাভিলিয় নির্মাণের পক্ষে নয় এনএসসি কিংবা বিসিবি। এই অস্থায়ী গ্যালারি উপড়ে ফেলে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণকাজে হাত দিতে চায় এনএসসি।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনি পয়েন্টে এতো বড় জায়গাটির মালিকানা যখন এনএসসি'র, তখন এই জায়গায় দেশের একমাত্র পরিকল্পিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গত ৩ এপ্রিল কক্সবাজার পরিদর্শণকালে প্রস্তাবিত ক্রীড়া কমপ্লক্সের যাবতীয় তুলে ধরেছে এনএসসির পরিকল্পনাও উন্নয়ন বিভাগ।
কক্সবাজার ক্রিকেট ভেন্যু পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন-
‘কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত। আমরা ভাবছি কীভাবে স্পোর্টস ট্যুরিজমের মাধ্যমে এই খ্যাতিকে কাজে লাগানো যায়। পৃথিবীর অনেক দেশে দর্শক গ্যালারি ছাড়াও মাঠে বা গ্লাসের ভেতরে বসে খেলা উপভোগ করে। কক্সবাজারের এমন সুন্দর পরিবেশে উন্নত স্টেডিয়ামের আদলে কিছু পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম নিয়ে বিগত সময়ে বিসিবি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে যে রশি টানাটানি ছিল, তা আর হবে না। বর্তমানে কক্সবাজারের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ফেরানো কঠিন। তবে আমরা এই কঠিন কাজকে সহজ করার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’
আগের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনতে হলে প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করতে হবে। তারপর ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ের অনুমোদন নিয়ে একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠাবে এনএসসি। বর্তমান সরকারের আমলেই দেশের একমাত্র ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে এনএসসি। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের যৌথ স্বাগতিক বাংলাদেশ, তা মাথায় রেখেই কক্সবাজারের লাবনি পয়েন্টে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।