আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম উত্তেজনার মধ্যেই দেশটিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার উত্তরসূরি নির্বাচনে কাজ করছে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস)। কট্টরপন্থী এবং কোণঠাসা সংস্কারপন্থী নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নানামুখী আলোচনার মধ্যেই এই তথ্য সামনে এলো। খবর আল জাজিরার।
বিশেষজ্ঞ পরিষদের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি জানিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, একটি প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে এবং বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। তবে কিছু বাধা এখনো রয়ে গেছে, যা শীঘ্রই দূর হবে বলে আমরা আশা করছি।
মাদরাসা-ই-ইলমিয়া কোমের এই প্রধান আরও জানান, অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই নির্বাচন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মাশহাদের প্রতিনিধি আহমদ আলমোলহোদা জানিয়েছেন, নেতা নির্বাচন হয়ে গেছে এবং সচিবালয় থেকে দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
প্রয়াত নেতা আলী খামেনীর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনীকে এই পদের জন্য প্রধান দাবিদার মনে করা হচ্ছে। শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডারদের বড় একটি অংশ তার পক্ষে রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার এই পদে আরোহণের বিরোধিতা করেছেন।
গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সিনিয়র সদস্য আব্বাস কাবি জানান, খামেনি জীবিত থাকাকালীন নির্দিষ্ট কোনো নাম প্রস্তাব করেননি। তবে তিনি পরবর্তী নেতার জন্য ‘আর্থিক সততা’, ‘বিপ্লবের মূলনীতির প্রতি অবিচল আস্থা’ এবং ‘আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার মতো গুণাবলীর ওপর জোর দিয়ে গেছেন।
ইরানের রাজনৈতিক এই পালাবদলের মধ্যেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি তেহরানে এক বিমান হামলায় খামেনির সাবেক চিফ অব স্টাফ আসগর হেজাজি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, যদিও ইরান এ বিষয়ে এখনো মুখ খোলেনি।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তায় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করায় কট্টরপন্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন। আইআরজিসি এবং বিচার বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ প্রয়োজনে কয়েক মাস ধরে চলবে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামিসহ সংস্কারপন্থী নেতারা খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেও শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি তুলেছেন। খাতামি এক বিবৃতিতে বলেছেন, জনগণের আপত্তির মুখে থাকা নীতি ও পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরি।
সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে অনেক সংস্কারপন্থী নেতাকে গ্রেপ্তার বা তলব করা হয়েছে।