স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬ ১০:০০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
বিগত এক বছরে বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির ঢল নেমেছে। বিষয়টি এখন একটি সুসংগঠিত ও কৌশলগত প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে। হামজা চৌধুরীর অভিষেকের পর থেকে বেশ কয়েকজন প্রবাসী খেলোয়াড় লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। এই ধারার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে যুব পর্যায়েও, যেখানে অনূর্ধ্ব-২০ দলে ডাক পাচ্ছেন একাধিক প্রবাসী বংশোদ্ভূত ফুটবলার।
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের চলমান দ্বিতীয় পর্যায় চলাকালীন বেশ কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার বিভিন্ন ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছেন, যার মধ্যে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবেই রয়েছেন চারজন। নারী জাতীয় দলেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী সম্প্রতি জাতীয় দলে যোগ দিয়েছেন এবং বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সব মিলিয়ে প্রবাসী প্রতিভাগুলোকে জাতীয় কাঠামোতে যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি এখন দৃশ্যমান ও কার্যকর।
এই প্রেক্ষাপটে সুলিভান পরিবার বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এক বড় সম্ভাবনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত বছরের মে মাসে এই পরিবারটি প্রথম আলোচনায় আসে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া চার ভাইয়ের মধ্যে বড় দুই ভাই কুইন সুলিভান ও কাভান সুলিভান যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিলেও, ১৮ বছর বয়সী যমজ দুই ভাই রোনান সুলিভান এবং ডিক্লান সুলিভান বাংলাদেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
রোনান সালিভান খেলেন সেন্টার ফরওয়ার্ড হিসেবে, আর ডিক্লান সালিভান রক্ষণভাগে রাইট-ব্যাক পজিশনে খেলেন।
এই দুই ভাইয়ের আগ্রহের পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের নিয়ে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক মাসের যোগাযোগ ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে এখন তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রবিবার রাতে বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম এক ভিডিও বার্তায় এই অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'আমি আগে উল্লেখ করেছিলাম যে আমরা পাঁচজন প্রবাসী খেলোয়াড় নিয়ে কাজ করছি। প্রতিটি ধাপ শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমরা আপডেট দিচ্ছি।
আলহামদুলিল্লাহ, সালিভান ভাইদের ক্ষেত্রে প্রধান ধাপগুলো সম্পন্ন হয়েছে।'
ফাহাদ করিম নিশ্চিত করেন যে, দুই ভাইয়ের জন্মসনদ সহ সব কাগজ নেয়া হয়েছে এবং পাসপোর্ট আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন শুধু নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে আবেদনের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহেই তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর আমরা আশাবাদী তারা দ্রুতই পাসপোর্ট হাতে পাবেন।'
তিনি আরও জানান, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এই প্রক্রিয়াটি সচল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী মার্চের মাঝামাঝি রোনান ও ডিক্লানের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য মালদ্বীপে অনুষ্ঠিতব্য সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ।
ফাহাদ করিম বলেন, 'সব ঠিক থাকলে তারা আগামী ১৪ বা ১৫ মার্চ ঢাকায় আসবে। এ বছরের প্রথম যুব প্রতিযোগিতা হচ্ছে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ, এবং আমার বিশ্বাস দুই ভাই সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।'
এই পর্যন্ত আসার যাত্রাটি ছিল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও যোগাযোগের ফসল। শুরুতে একটি সমর্থক গোষ্ঠীর মাধ্যমে সুলিভান পরিবারের সাথে যোগাযোগ হয়। এরপর তাদের নানি এবং বাবা-মায়ের সাথে একাধিক জুম মিটিং ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই দুই ভাই তাদের মায়ের সূত্রে বাংলাদেশের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাদের নানি বাংলাদেশি এবং দাদা জার্মান বংশোদ্ভূত। ফলে তাদের বাংলাদেশ, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র তিনটি দেশের সাথেই সংযোগ রয়েছে।