ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ভেজাল লাচ্ছা সেমাই

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার


অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ভেজাল লাচ্ছা সেমাই

নীলফামারী: ঈদ সামনে এলেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সেমাই কারখানাগুলো। কিন্তু সেই ব্যস্ততার আড়ালে যদি লুকিয়ে থাকে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর স্বাস্থ্যঝুঁকি, তবে তা হয়ে ওঠে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। 

নীলফামারীর বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে এবার ঠিক এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী ও মৌসুমি কারখানায় নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই।

অভিযোগ রয়েছে, পচা ডিম, পশুর চর্বি (এনিমেল ফ্যাট), কৃত্রিম ঘি, নিম্নমানের পামওয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে উৎপাদন চলছে পুরোদমে।

 

সৈয়দপুর খালেক পাম্প সংলগ্ন জুম্মাপাড়া এলাকা, কাজীরহাট, পুরাতন বাবুপাড়া, বাঁশবাড়ী, মিস্ত্রিপাড়া ও গোলাহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব কারখানা। অধিকাংশেরই নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন। নেই স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বা প্রয়োজনীয় তদারকি।


নিয়ম অনুযায়ী সেমাই তৈরির কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের অ্যাপ্রোন, হেডকভার ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক। অথচ অধিকাংশ কারখানায় এসবের বালাই নেই। ঘামভেজা শরীরেই শ্রমিকরা কাজ করছেন; কোথাও কোথাও খোলা মেঝেতে শুকানো হচ্ছে সেমাই।

 

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ক্রেতা জানান, প্যাকেটের গায়ে নামিদামি কোম্পানির লেভেল থাকলেও ভেতরের পণ্য নিয়ে সন্দেহ আছে।

দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই না বুঝে কিনছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে তৈরি সেমাই নামিদামি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে আসল-নকল পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব সেমাই শুধু সৈয়দপুরেই নয়, আশপাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাটবাজারেও পাঠানো হচ্ছে পাইকারিভাবে।
বৈধ ও অনুমোদিত কয়েকটি কারখানার মালিকেরা অভিযোগ করেন, ভেজাল উৎপাদকদের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এক কারখানা মালিক বলেন, আমরা নিয়ম মেনে মানসম্মত কাঁচামাল ব্যবহার করি। কিন্তু ভেজালকারীরা কম দামে বাজার ভরে ফেলায় প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

 

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, খাদ্যবিষক্রিয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি। 

তিনি ঈদে খাবার কেনার ক্ষেত্রে সচেতনতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা বলেন, ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের সময় প্রমাণ মিললেই তৎক্ষণাৎ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, ভেজাল ও অননুমোদিত কারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণ হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহলের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কঠোর তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে পণ্য কেনার আগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, অনুমোদনের সিল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করা প্রয়োজন। উৎসবের আনন্দ যেন ভেজালের কারণে বিষাদে পরিণত না হয়, এটাই এখন সৈয়দপুরবাসীর প্রত্যাশা।


   আরও সংবাদ