স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার
বিশ্বকাপ মঞ্চে ভারত–পাকিস্তান মানেই একরকম পূর্বনির্ধারিত চিত্রনাট্য—রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, আর শেষমেশ ভারতের জয়োৎসব। ২০২১ সালে দুবাইয়ে একবার ইতিহাস বদলেছিল পাকিস্তান, কিন্তু সেটাই রয়ে গেছে ব্যতিক্রম। এরপর থেকে ওয়ানডে হোক বা টি–টোয়েন্টি—মহারণের শেষ হাসিটা ভারতেরই। চলতি বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম হলো না।
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান গুটিয়ে গেল ১১৪ রানে। ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হার, আর টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হার বেড়ে দাঁড়াল আটে।
ম্যাচের আগেই ছিল বাড়তি উত্তাপ। কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রভাব পড়ে মাঠের বাইরেও।
এশিয়া কাপ থেকে দুই দলের অধিনায়কদের করমর্দন না করার দৃশ্য ছিল আলোচনায়। আজ কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামেও টসের সময়ও সেই চিত্রই দেখা গেল। পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আঘা টস জিতলেও করমর্দনের আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে যান তিনি ও ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।
এমন রেশ নিয়েই ব্যাটিংয়ে নামে ভারত।
শুরুর ধাক্কা সামলে দারুন ব্যাটিং করে পাকিস্তানকে ১৭৬ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। জবাবে পাকিস্তানের ব্যাটিং যেন তাসের ঘর। পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ হাতছাড়া। হার্দিক পান্ডিয়া ও জসপ্রিত বুমরার নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো স্পেলে ৫ ওভারের মধ্যে চার টপ অর্ডার ব্যাটার ফিরে যান। এরপর উসমান খান ও শাদাব খান ৩৯ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগান।
উসমান করেন সর্বোচ্চ ৪৪ রান। কিন্তু তার বিদায়ের পর আর টিকতে পারেনি পাকিস্তান। শাহিন শাহ আফ্রিদির ১৯ বলে অপরাজিত ২৩ রান না থাকলে স্কোর হয়তো আরও বিব্রতকর হতো। ১৮ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট পাকিস্তান।
ভারতের বোলাররা ছিলেন নিখুঁত পরিকল্পনায়। হার্দিক, বরুণ চক্রবর্তী, বুমরা ও অক্ষর প্যাটেল নেন দুটি করে উইকেট। কুলদ্বীপ যাদব ও তিলক ভার্মা যোগ করেন একটি করে।
র আগে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাঠায় পাকিস্তান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। ইনিংসের শুরুতেই অধিনায়ক সালমান আলীর বোলিং চমকে দেয় ভারতকে। টি–টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা অভিষেককে শূন্য রানে ফেরান তিনি। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। ঝড় তোলেন ইশান কিশান। শাহিন শাহ আফ্রিদি, আবরার আহমেদ, শাদাব খান—কেউই তার আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি। ৪০ বলে ৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতের স্কোরবোর্ডে বড় ভিত গড়ে দেন তিনি। পরে শিভম দুবের ২৭ ও রিঙ্কু সিংয়ের ১১ রানে ভর করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ তোলে ভারত।
এমন উইকেটে মিডিয়াম পেসার ফাহিম আশরাফকে কেন আক্রমণে আনা হলো না? তার স্লো মিডিয়াম হয়তো কার্যকর হতে পারত, ধারাভাষ্যকারদের মতও ছিল তেমনই। হয়তো শাহিনের ব্যয়বহুল স্পেল (২ ওভারে ৩১ রান) দেখেই ঝুঁকি নেননি সালমান। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সাইম আয়্যুব তিনটি উইকেট নেন; একটি করে পান সালমান আলী, শাহিন আফ্রিদি ও উসমান তারিক।
মহারণে আবারও একই গল্প। লড়াই জমজমাট, আবহ উত্তপ্ত, কিন্তু ফলাফল একপেশে। বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মানেই ভারতের প্রাধান্য, আর পাকিস্তানের নতুন করে হতাশা।