ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

এক টাকাও দুর্নীতি করেননি’ দাবি ফয়েজ তৈয়্যবের

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১১:০৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার


 এক টাকাও দুর্নীতি করেননি’ দাবি ফয়েজ তৈয়্যবের

নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্টে দেশ ত্যাগ করা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, তিনি সৎ ব্যক্তি এবং এক টাকাও দুর্নীতি করেননি।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশত্যাগের পর দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি লেখেন, ফেব্রুয়ারি ৮, ৯ ও ১০ তারিখে আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন। এরপর নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।

প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনী আয়োজনেও তার কিছু অবদান ছিল। সহকর্মীদের কাছ থেকেও যথাযথ বিদায় নিয়েছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল তার অফিসিয়াল শেষ কর্মদিবস। সেদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে একসঙ্গে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছেন।

সহকর্মীরা গান গেয়ে তাকে বিদায় জানিয়েছেন, যা তার ওয়ালে পাওয়া যাবে।

 

তিনি আরও লেখেন, একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও সৎ ব্যক্তিকে দুটি অসম্মানজনক কটু কথা বলার আগে তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেওয়া খুব বেশি কিছু নয়।

বিদায়ের সময় এক সহকর্মী তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এরপর কী করবেন? জবাবে তিনি বলেছেন, দ্রুত একটি চাকরি খুঁজতে হবে। দেশের জন্য কাজ করতে এসে আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং রয়েছে এবং স্ত্রীর চিকিৎসাজনিত জরুরি বিষয়ও আছে। ছুটি নিয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, রিটার্ন টিকিট কেটে দেশে এসেছেন, তারিখ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেই জেনে নেওয়া যাবে।

দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারকে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে হওয়ায় দিনটিও উল্লেখ করেন।

 

তিনি লেখেন, অনেকগুলো বই উপহার পেয়েছেন এবং সেগুলো সঙ্গে নিয়ে গেছেন। দীর্ঘ ক্লান্তির পর কিছুটা বিশ্রাম প্রয়োজন। স্লিপিং সাইকেল ব্যাহত হওয়ায় গত এক বছর নিয়মিত ঘুমাতে পারেননি। বিশ্রামের পাশাপাশি উপহার পাওয়া বইগুলো পড়বেন।

পত্রিকার কলাম নিয়মিত পড়তেন জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সহলেখকদের লেখা মৌলিক লেখাগুলোও পড়তে হবে।

তিনি আরও লেখেন, অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। একটি শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা এনেছেন। পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, যা প্রায় পাঁচ বছরের কাজের সমান। বিশ্বাস না হলে কোনো পেশাদার গবেষণা সংস্থা বা অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, আমি এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি স্বভাবে সৎ মানুষ। টাকা আত্মসাৎ করেছি— এ অভিযোগ মেনে নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ী ও টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে। আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি।

আরও লেখেন, দ্রুত একটি চাকরি খুঁজবেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন। স্ত্রী-সন্তানকে বঞ্চিত করে নিরাপদ জীবন ছেড়ে দেশে এসেছিলেন, অথচ কিছু মানুষ তাকে অপমান ও অপদস্থ করার চেষ্টা করেছে। মাঝে মাঝে তার মনে হয়, এ দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ সৎ ও জ্ঞাননির্ভর নেতৃত্ব প্রাপ্য নয়— এ ভাবনাটি তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।

সবশেষে তিনি লেখেন, আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ খাবার খাই, সাধারণ জীবনযাপন করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি। ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন।


   আরও সংবাদ