ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৭:২১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নদী জীবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে কার ভালো লাগে আর কার লাগে না, এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তাতেই কোদাল বসাব।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দশ দলীয় ঐক্য জোট কর্তৃক আয়োজিত রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে নিষ্পেষিত ছিল। মানবিক যে অধিকার পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া হয় নাই। কানাডার বিশাল একটা জায়গায় শুধুমাত্র পালিয়ে যাওয়া লোকেদের পরিবার থাকে।
যেহেতু ওই সমস্ত জায়গায় তাদের বেগমরা থাকে, তাই নাম দিয়েছে ‘বেগম পাড়া’। এত লুটপাট করে কী লাভ হলো? শান্তি তো পেলেন না।
তিনি বলেন, আপনারা আলেম-ওলামাদের খুন করেছেন। একটা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য একটি নারীকে ছিন্নভিন্ন করেছিলেন।
আমাদের মা-বোনেদের ইজ্জত-আব্রু নিয়ে নোংরামো করার চেষ্টা করেছেন।
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ২৪-এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত অসংখ্য মানুষকে হত্যা, আহত ও গুম করা হয়েছে। জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জামায়াতের ১১জন সিনিয়র নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এক হাজারের বেশি আমাদের নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে।
শত শত মানুষকে গুম করে আয়নাঘরে নেওয়া হয়েছিল। ৫ তারিখের পর আমাদের আশা ছিল শান্তিতে বসবাস করব। কিন্তু আমাদের আশায় গুড়ে বালি পড়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, রংপুরের মানুষ শান্তশিষ্ট। তারা অল্পে তুষ্ট। আমরা ছিলাম সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। আমরা নিরীহ কোনো মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করি নাই। নিরপরাধ কারো নাম ঢুকে গেলে আমরা তাদের মুক্ত করে দিয়েছি। কাউকে ছাড়ানোর জন্য খাজনা চাই নাই। আমরা চাই চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত, অসৎ ও প্রতারকমুক্ত বাংলাদেশ। কোনো অসৎ মানুষ মজার মজার মিথ্যা ওয়াদা দিলে তাদের লাল কার্ড দেখাবেন। এই দেশে আমরা চারটি ধর্মের মানুষ বসবাস করি। আল্লাহ আমাদের নিজ ইচ্ছায় এই দেশে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ সকল ধর্মের মানুষের জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন। মুসলমান অন্য কোনো ধর্মের ওপর কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা ইরান বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে প্রিয় ও গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে তৈরি করতে চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো বেকার ভাতা দিতে চাই না। বেকার ভাতা বেকারের কারখানা তৈরি করে। আমরা নারী-পুরুষকে কাজ দিতে চাই। আমরা দেশের নারী-পুরুষকে সম্পদে পরিণত করতে চাই। আমাদের সবার ঘরে মা-বোন আছে। সুতরাং নারীরা ঘরে কাজ করতে পারলে বাইরে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতেও পারবে। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমরা নারী কোন ধর্মের তা দেখব না, দেখব কতটুকু যোগ্যতা সম্পন্ন। যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের মা-বোনদের সম্মানজনক কাজ দেওয়া হবে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে সবাই আসতে পারবেন। তবে আসতে হলে তিনটি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, দুর্নীতি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ইচ্ছা থাকতে হবে এবং বিচার ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তৃতীয়ত, গত ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি বাদ দিয়ে আসতে হবে। গত ৫৪ বছরের রাজনীতি দেশকে শুধু পিছনের দিকে নিয়ে গেছে। আমরা উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ। উত্তরবঙ্গে প্রয়োজনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করব, ইনশাআল্লাহ। আমরা বলেছিলাম কারও কোনো ক্ষতি করব না, আমরা করি নাই।
১০ দলীয় ঐক্য জোটের সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহার, এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন, শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ প্রমুখ।