ঢাকা, শনিবার, ০২ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

শ্রমিকদের উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২ মে, ২০২৬ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার


শ্রমিকদের উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না

৩৬৪ দিন সবাই শ্রমিকদের দাবিগুলো ভুলে থাকলেও পহেলা মে দরদি ও আন্তরিক হয়ে ময়দানে নেমে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর ডা. আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না।

 

মে দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 'বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন' এর আয়োজন করে।

 

সংসদীয় রাজনীতিতে সংসদ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ওখানে গালগল্প করতে যাইনি। আমরা ওখানে ইতিহাসের মাস্টার কিংবা ছাত্র হতেও যাইনি।

আমরা ওখানে গিয়েছি এ দেশের দুঃখী মানুষের জন্য কথা বলতে।’

 

শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দেশে শ্রমিক সমাবেশগুলোতে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়ে শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের আশ্বাস দেন।

১৪০ বছরে তাদের দেওয়া ওয়াদার ১০ ভাগের ১ ভাগও যদি পূরণ করা হতো, তাহলে শ্রমিকদের আর কোনো দাবি-দাওয়া অবশিষ্ট থাকতো না।

 

বামপন্থি সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে যারা নিজেদের বামপন্থি বলে দাবি করেন, তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বেশি সংগ্রাম করেন। এখন বাংলাদেশ, তার আগে পাকিস্তান- ধারাবাহিকভাবে এটি চলে আসছে। যখনই কোনো ইস্যু আসে, বাম দলের নেতানেত্রীরা সামনে এসে দাঁড়িয়ে যান। তারপর আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে, মাঠ গরম হয়, কিছু মানুষের জীবন যায়, কিছু মানুষ আহত হয়। আর কিছু মানুষের চাকরি যায়। কিন্তু নেতা-নেত্রীরা রাতের আঁধারে তাদের ভাগটা পেয়ে যান, ভাগ পেয়ে তারা সন্তুষ্ট হয়ে যান। তখন গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তারা ‘ব্ল্যাকমেলিং’ করেন। এভাবে যুগ যুগ ধরে নেতা-নেত্রীর কপালের পরিবর্তন হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

জামায়াতে ইসলামীর আমির আরও বলেন, তারা আবার শ্রেণি-সংগ্রামের আওয়াজ তোলেন। তারা বলেন শ্রেণিশত্রু খতম করতে হবে। শত্রু কারা? শত্রু হচ্ছে মালিকপক্ষ। আচ্ছা মালিকই যদি না থাকে তাহলে শ্রমিকটা কাজ করবে কোথায়? আমরা ওই খতমের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা, ভালোবাসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষের তৈরি শ্রমনীতি নিপীড়িত শ্রমিকের মুক্তি দিতে পারে না। দেড় হাজার বছর আগে মহানবী (সা.) যে শ্রমনীতি উপহার দিয়েছিলেন, সেটি বাস্তবায়ন করতে পারলে শ্রমিকদের মজুরি, কর্মঘণ্টাসহ সব অধিকার পাওয়া যেত।

সামনের দিনে ভোট নিয়ে কাউকে তামাশা করতে দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনা করার চেষ্টা করছে। সরকার যদি গায়ের জোরে দেশ ও সংসদ পরিচালনা করতে চায়, তাহলে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার জন্য দেশের হাজার হাজার মানুষ কেন জীবন দিল, আহত হলো- সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। গণভোটের রায় অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেওয়া হবে না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান।


   আরও সংবাদ