ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

দৃষ্টি সংযত রাখার সাত উপকার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার


দৃষ্টি সংযত রাখার সাত উপকার

আল্লাহ মুমিন নর-নারীকে দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অনেকেই ধারণা করেন, দৃষ্টি অবনত রাখার বিধানটি শুধু নৈতিকতা ও চারিত্রিক স্খলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। আল্লাহ দৃষ্টি অবনত রাখার ভেতর অপরিসীম কল্যাণ রেখেছেন।

 

নিম্নে এমনি কয়েকটি কল্যাণের বর্ণনা দেওয়া হলো—

১. আক্ষেপ কমে : আক্ষেপের আগুন, না পাওয়ার হতাশা এবং বঞ্চিত হওয়ার থেকে অন্তর মুক্ত থাকে। কেননা যে ব্যক্তি তার দৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়, তার দৃষ্টি পার্থিব চাকচিক্যের প্রেমে পড়ে যায়।

ফলে তার ভেতর আফসোস আর না পাওয়ার কষ্ট লেগেই থাকে।

২. অন্তরে নুর তৈরি হয় : যারা আল্লাহর নির্দেশ মতো দৃষ্টি সংযত রাখে আল্লাহ তাদের অন্তরে নুর ও আলো সৃষ্টি করেন।

 

একইভাবে দৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিলে অন্তর, চেহারা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়। কেননা দৃষ্টি হলো অন্তরের জানালার মতো। যে তা সংরক্ষণ করে তার অন্তরে পাপের ধুলাবালি প্রবেশ করতে পারে না আর উদাসীন হলে তা পাপে আচ্ছন্ন হয়।

৩. দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায় : দৃষ্টি হেফাজত করলে মানুষের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায়।

ফলে সে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়। আল্লামা কিরমানি (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি তার বাহ্যিক দিকগুলোকে সুন্নত দ্বারা সুসজ্জিত করে, সব সময় অন্তরে আল্লাহকে স্মরণ রাখে এবং তাঁর কথা চিন্তা করে, নিষিদ্ধ বিষয় থেকে চোখ সংরক্ষণ করে, প্রবৃত্তিকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে এবং হালাল খায় সে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কখনো ব্যর্থ হয় না। আল্লাহ তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফিক দেন।
 

৪. আসমানি জ্ঞান লাভ : যে ব্যক্তি হারাম দৃষ্টিপাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে আল্লাহ তাঁর জন্য ইলমে ওহির (ঐশী জ্ঞানের) দরজা উন্মুক্ত করে দেন, ইলম অন্বেষণ পথ ও তার উপকরণগুলো সহজ করে দেন। আর এটা অন্তরে সৃষ্ট নুর বা জ্যোতির কারণেই হয়ে থাকে।

কেননা যখন অন্তর নুর দ্বারা আলোকিত হয়, তখন তার মধ্যে সবকিছুর হাকিকত (সত্তা ও গুণাবলির প্রকৃত জ্ঞান) স্পষ্ট হয়। বিপরীতে যে ব্যক্তি তার দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছেড়ে দেবে, তার অন্তর অন্ধকার ও আবর্জনায় ভরে যাবে।

৫. আত্মা শক্তিশালী হয় : মানুষ যখন দৃষ্টির হেফাজত করার মাধ্যমে আল্লাহর নুর ও ইলমে হাকিকত লাভ করে, তখন তাঁর রুহ বা আত্মা আল্লাহর রঙে রঙিন হয় এবং তাতে অভাবনীয় শক্তি, দৃঢ়তা ও সজীবতা তৈরি হয়।

৬. আত্মিক তৃপ্তি বাড়ে : দৃষ্টি সংযত রাখলে মানুষের অন্তরে তৃপ্তি, আনন্দ ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। কেননা চোখে দেখে কোনো কিছু উপভোগ করলে পশু প্রবৃত্তি শক্তিশালী হয় এবং আল্লাহপ্রেমের স্বাদ নষ্ট হয়। বিপরীতে দৃষ্টি সংযত করলে আল্লাহপ্রেমের তৃপ্তি ও ইবাদতে স্বাদ বৃদ্ধি পায়।

৭. জাহান্নাম থেকে রক্ষা : দৃষ্টির হেফাজত একজন মানুষকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে। কেননা খারাপ বিষয় বা বস্তু দেখলে তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ তৈরি হয়। তখন মানুষ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের প্রতি ধাবিত হয়। বিপরীতে যখন কেউ তার চোখের হেফাজত করে, সে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে।

বর্তমানে হারাম দৃষ্টির রোগ মহামারিতে রূপ নিয়েছে, বিশেষত যুবসমাজ এই ভয়াবহ ব্যাধিতে আক্রান্ত। হারাম দৃষ্টি তাদের অমূল্য জীবন ও যৌবনকে ধ্বংস করছে। তা তাদের দৃষ্টির সামনে এমন অন্ধকার পর্দা টানিয়ে দিচ্ছে যে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশনা, দ্বিন ও সামাজিক মূল্যবোধ; এমনকি তাদের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছে না। যে শক্তি ও সামর্থ্য তারা দ্বিন ও দুনিয়ার কল্যাণে ব্যবহার করতে পারত দৃষ্টির লাগাম তা অর্থহীন করে দিচ্ছে। তাই যুবসমাজকে দৃষ্টির বিপদ থেকে রক্ষা করা জরুরি। আল্লাহ সবাইকে এই ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা করেন। আমিন।

মাওয়ায়িজুল আখিরাহ থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর


   আরও সংবাদ