ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৭৮৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে নতুন করে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রকাশিত স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৭৯ জন। এর মধ্যে মোট নিশ্চিত রোগী ৪ হাজার ৮২৮ জন।
এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ৮২৬ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২ হাজার ৬৫৪ জন।
অর্থাৎ, হাম রোগীর চাপ এখনো হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর উচ্চমাত্রায় বজায় রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৭, মোট মৃত্যু ১৬
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অদ্যাবধি মোট নিশ্চিত মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে সন্দেহজনক হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মোট নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা নয়জন উল্লেখ ছিল। পরে হালনাগাদ তথ্য সংযোজনের পর সেই সংখ্যা ১৬ জনে উন্নীত হয়েছে।
মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ঢাকায়, জেলায় টাঙ্গাইল শীর্ষে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাম রোগে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে টাঙ্গাইলে।
অর্থাৎ, রাজধানীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও ঢাকা বিভাগে সংক্রমণ ও জটিলতার চাপ বেশি।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগভিত্তিক উপাত্তে দেখা গেছে, হাম এখন একক কোনো অঞ্চল বা জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি দেশের বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে রোগী শনাক্তের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় রোগীর চাপ বেশি। চট্টগ্রামেও আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। রাজশাহী ও ময়মনসিংহে সংক্রমণ বিস্তার পাচ্ছে। আর রংপুর, সিলেট ও বরিশালেও ঝুঁকি রয়েছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামকে এখনো অনেক পরিবার ‘সাধারণ জ্বর-ফুসকুড়ি’ ভেবে অবহেলা করে, যা মারাত্মক ভুল।
চিকিৎসকদের মতে, হাম শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে তারা সহজেই নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে সংক্রমণ), তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারে।
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক রিয়াজ মোবারক বাংলানিউজকে বলেন, মিজলস বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তখন নিউমোনিয়া হয়, এনসেফালাইটিস হয়, ব্রেইন ইনফেকশন হয়। কিছু কিছু বাচ্চাকে আইসিইউতে নিতে হয়।