ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৫২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৩ বার
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রোববার থেকে সরকার জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান শুরু করবে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জানান, আগামীকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব জেলায় কার্যক্রম শুরু হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—বগুড়া, পাবনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার, গাজীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল, নওগাঁ, যশোর, নাটোর, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, ঢাকা, ঝালকাঠি ও শরীয়তপুর।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে এসব জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকা প্রদান করা হবে। কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে পাঁচটি স্থানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন এবং বাকি উপজেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনরা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এ কারণে প্রথম পর্যায়ে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।
আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক—এই বয়সসীমার সব শিশুকেই পুনরায় টিকা দেওয়া হবে।
টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বরগ্রস্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে।
২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীতের বিষয় নিয়ে তদন্তে সময় নষ্ট না করে বর্তমানে শিশুদের সুরক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় আইসিইউ শয্যার সংকটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, গুজবে কান না দিয়ে নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে এবং সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এস.এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।