ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৪৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
আইনি বাধ্যবাধকতা ও আয়কর রিটার্ন অনলাইনে বাধ্যতামূলক করার কারণে করজাল বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, দেশে মোট ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) এক কোটি ২৮ লাখ ছাড়িয়েছে। আর আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়েছে ৪২ লাখ ৫০ হাজার। এই সংখ্যক টিআইএন কয়েক বছর আগেও ছিল না।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপলক্ষ্যে প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেয় অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।

মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, ২০১৪ সালের টিআইএন ছিল ১৪ লাখের মতো। কিছু কাজে টিআইএন কম্পালসারি করার কারণে গত এক দশকে টিআইএন বেড়েছে।
চলতি বছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার কারণে আয়কর রিটার্ন দাখিলে গতি এসেছে। আগামী বছরগুলোয় এ হার আরও বাড়বে।
আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে আগামী বছর থেকে আর নির্দিষ্ট সময় থাকবে না বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রথম প্রান্তিকে যেসব করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের প্রণোদনা দেওয়া হবে।
যারা দ্বিতীয় কোয়ার্টারে দেবেন তাদের নিয়মিত করদাতার হিসেবে গণ্য করিা হবে। আর যারা তৃতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টারে আয়কর রিটার্ন দেবেন তাদের জন্য বাড়তি কর দেওয়ার বিধান করা হবে।

মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, গত দেড় বছরে বিআইএন নেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪ এর আগস্টে বিআইএন ছিল ৫ লাখের কিছু বেশি। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কয়েকটা ড্রাইভ দেওয়ায় এখন ৮ লাখ ছাড়িয়েছে।
এটা ৮ লাখ না, কমপক্ষে ৮০ লাখ হওয়ার কথা। এই বছর আমাদের বিজনেস কমিউনিটির নেতারাই বলেছেন, আমাদের ৬০ লাখ দোকানদার অনেক ভালো ব্যবসা করেছে, প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। তাহলে সেই বেশি বিক্রির প্রতিফলন ভ্যাটে নেই কেন। এজন্য আমরা এ জায়গায় একটা বড় কাজ করব, বিশেষ করে ভ্যাটের নেট বড় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আগামী বছরের করবর্ষে সম্পদ কর ফিরিয়ে আনার কথাও চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। বলেন, যাদের বেশি সক্ষমতা আছে তাদের বেশি ট্যাক্স দেওয়ার কথা, তাদের থেকে বেশি ট্যাক্স নিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে ইনকাম ট্যাক্সে আরও জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ, এটাই হচ্ছে মূল জায়গা যেখানে আপনার সম্পদ বণ্টনের বিষয় আছে। যাদের হাতে অনেক বেশি ইনকাম, তাদের থেকে বেশি কর নিয়ে এটা আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।