ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

তরুণদের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে পেঞ্চাক সিলাত

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৩০ বার


তরুণদের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে পেঞ্চাক সিলাত

পেঞ্চাক সিলাত: পরিচয়, ইতিহাস ও বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা
পেঞ্চাক সিলাত মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট। কৌশলগত পদচারণা, Artistic, Kick, Punch, Takedown, Chocked, Locked, Throwing, Thrusting, Defence প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করার মতো নান্দনিক নানামুখী কৌশলের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায় এতে। কেবল আত্মরক্ষা শেখাই নয়, বরং আত্মনিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা, সাহস অর্জন এবং প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই এই মার্শাল আর্টের মূল উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও এতে নৈতিকতা, আত্ম নিয়ন্ত্রণসহ মনোদৈহিক উন্নতি বিকাশে কাজ করে। 
এটি একক ও দলীয়—দুইভাবেই খেলা যায়। এর বিভিন্ন রূপ রয়েছে; যেমন: তান্ডিং (ওজনভিত্তিক সরাসরি লড়াই), তুঙ্গাল (একক শৈল্পিক পরিবেশনা), গান্ডা (দুইজনের পূর্ব-পরিকল্পিত কৌশল) এবং রেগু (তিনজনের দলগত ছন্দময় প্রদর্শন)। ফলে এই খেলায় যেমন তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে, তেমনি আছে ছন্দ ও বিনোদনের উপাদান। নিয়মিত পেঞ্চাক সিলাত চর্চা করলে মনোযোগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। বহিবিশ্বে পেঞ্চাক সিলাতের চর্চাকারীরা এমএমএ বা মিক্স মার্শাল আর্ট এর মতো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকে।
বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে এই খেলাটি পরিচিতি পেতে শুরু করলেও তা কোর বেসিসে যেভাবে উন্নয়ন হওয়ার কথা থাকলেও সেভাবে হয় নি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তথ্যমতে, দেশে পেঞ্চাক সিলাতের প্রচার, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০০ সালে ‘বাংলাদেশ পেঞ্চাক সিলাত অ্যাসোসিয়েশন’ গঠিত হয়। সংস্থাটি বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশন কর্তৃক স্বীকৃত। এছাড়াও বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসী এর মাধ্যমে সোশিও কালচার প্রোগ্রামের আওতায় ইন্দোনেশিয়ান কোচ দ্বারা অরিজিনাল, ট্রাডিশনাল পেঞ্চাক সিলাত ট্রেনিং অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই খেলাটি 'ইন্টারন্যাশনাল পেঞ্চাক সিলাত ফেডারেশন' (PERSILAT) দ্বারা পরিচালিত হয়, যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পেঞ্চাক সিলাত ১৯৮৭ সাল থেকে 'সাউথ এশিয়ান গেমস' (SEA Games) এবং ২০১৮ সালের জাকার্তা-পালেমবাং এশিয়ান গেমসে পদক ইভেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এটি এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিল দ্বারা স্বীকৃত। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসে রোড টু অলিম্পিক হিসেবে ইন্দোনেশিয়ান প্রেসিডেন্ট জেনারেল প্রাবু সুবিয়ান্ত এর উপস্থিতিতে পেঞ্চাক সিলাতের উপর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়; উল্লেখ্য জেনারেল প্রাবু সুবিয়ান্ত PERSILAT এর সভাপতিও। বাহরাইনে অুনষ্ঠিত এশিয়ান ইউথ গেমেসে পেঞ্চাক সিলাতের প্রতিযোগিতা অুনষ্ঠিত হয়। PERSILAT আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির গেমসে অন্তর্ভূক্তির জন্য  কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্যও রয়েছে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ৪র্থ এশিয়ান পেঞ্চাক সিলাত চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষদের ৮৫–৯০ কেজি ক্যাটাগরিতে মনজুরুল হোসাইন ডাবলু ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। 
২০২০ সালে করোনার মধ্যে এএস এম তাহমিদুল হক জুয়েল পেঞ্চাক সিলাতের প্রচার, উন্নয়নের জন্য আন্তজার্তিকভাবে দ্বায়িত্ব পেলেও কোভিড-১৯ এর কারনে প্রায় ২ (দুই) বছর অন্তরায় হলেও ২০২০ সালে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ২০২০, ২০২১ সালে ডিফেন্স এটাচে ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসী,ঢাকার কর্নেল মারদিকান প্রধান অতিথিতে ন্যাশনাল, ১ম উত্তরবঙ্গ, ঢাকা কাপ ১ম ও ২য়, বিজয় দিবস কাপ চ্যাম্পীয়নশীপ অুনষ্ঠিত হয়। গত ২০২২ সালে মেলাকা, মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পেঞ্চাক সিলাত চ্যাম্পিয়নশীপে চাঁদ মোঃ রকি, মোঃ তৌহিদুল ইসলাম রাকিব, বাসুদেব চন্দ্র বর্মন কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উন্নীত হয়। 
বাংলাদেশ পেঞ্চাক সিলাত এসোসিশেয়ন এর সাধারণ সম্পাদক এএস এম তাহমিদুল হক জুয়েল জানান  “বর্তমানে বাংলাদেশে খেলাটি মূলত শহরকেন্দ্রিক এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে এখনও তুলনামূলকভাবে নতুন। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক, জেলা পর্যায়ে সংগঠন, নিয়মিত টুর্নামেন্ট, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রচারের অভাব এর মূল প্রতিবন্ধকতা। উল্লেখ্য, শুধু পদক বা সনদ পেলেই চাকরিতে কোটা বা সুযোগ নিশ্চিত হয় না—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বৃত্তি কিংবা সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি পাওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও পারফরমান্সের ওপর। তবে সঠিক পরিকল্পনা, পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রচার বাড়লে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, রেফারি এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞ হিসেবে তরুণদের জন্য এখানে দারুণ পেশাগত সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ জন্য জরুরী হয়ে পড়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তথা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন।”


   আরও সংবাদ