ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ অগাস্ট, ২০২৬ ১৬:৩৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
গত ১৭ বছর বিরোধী দলে থেকে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, ক্ষমতায় এসে তারাই আবার বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদের খাসলত ও পথ ধারণ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনারাও তো আমাদের মতোই মজলুম ছিলেন, তাহলে এখন কেন জালিম হতে যাচ্ছেন?
রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাড়ে ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কেমন চরম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়েছেন, তা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের চিন্তা করা উচিত। কিন্তু একটি রক্তভেজা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার পরও আগের সরকারের দমন-পীড়নের সেই একই আচরণ ধারণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিরোধী মত দমনে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বলপ্রয়োগের যে চর্চা দেখা যাচ্ছে, তা বিগত সরকারের হুবহু ফটোকপি ছাড়া আর কিছুই নয়।
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যে ব্যক্তি দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন, তাকে এমন একটি নিরপেক্ষ জায়গায় বসিয়ে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায়?
বিগত নির্বাচনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে জাতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ক্ষমতার দাপটে সূর্য সব সময় এক জায়গায় স্থির থাকে না।
মধ্যাহ্নের পর সূর্যের যেমন পতন ঘটে, তেমনি জনগণের অভিপ্রায়কে যারা অপমান করে, শেষ পর্যন্ত তাদের নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। ইতিহাস বারবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে।
সম্প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলিফ নামের এক নিরপরাধ ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার্থী, যে টিউশনি করে তার পরিবার চালাত, তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আজকে তার চোখ অন্ধ করে দেওয়া হলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি পারবেন তার সেই চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে?
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও বর্তমান ক্ষমতাসীনদের হাতে একাধিক সহকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে এবং নানা স্থানে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট যখন তাদের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন বিএনপি, এলডিপিসহ গণতান্ত্রিক দলগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু যারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাদের পতন হতে মাত্র কয়েক দিন সময় লেগেছে। এটি আল্লাহর বিচার ও কুদরতের নিদর্শন।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বীর বিক্রম।
সভায় অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের কর্মী এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।