আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ‘রিইম্বার্সমেন্ট ফি’-এর পরিবর্তে বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বড় আকারের বিনিয়োগ করবে।
এই ঘোষণা এসেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বেড়েছে।
মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের নৌ-হুমকি দুর্বল করতে তারা টানা তৃতীয় রাতের মতো হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুশেহরসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যয় বহন করছে, তা মেটানোর জন্য এই জলপথ ব্যবহারকারী সব কার্গো পরিবহনের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপ করা হবে। পাশাপাশি তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহালের কথাও জানান।
তবে পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ওয়াশিংটনে ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ফি আরোপের ধারণাটি পছন্দ করি না। তবে একই সঙ্গে এটাও ন্যায্য নয় যে পুরো বিশ্বের জন্য আমরা এই প্রণালী রক্ষা করব।’
তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি টোল আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী এখন ইরান ছাড়া অন্য সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কারণে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরান আগে হামলা চালালে তার জবাব হবে ‘অনেক বেশি শক্তিশালী’। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।