ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার
যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া আলোচনা বর্তমানে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এমন পরিস্থিতিতে আলোচনায় গতি ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার।
এ তৎপরতার অংশ হিসেবে কাতারের প্রতিনিধিরা ইরানের রাজধানী তেহরানে গিয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
মূল লক্ষ্য হলো চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও বিস্তৃত আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন।
ওই প্রক্রিয়ায় কাতারও যুক্ত ছিল। তবে যুদ্ধ থামেনি।
সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার পর সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা নিয়ে ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি ইরানের অন্তত পাঁচটি প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে সমঝোতা স্মারক বাতিলের কথা বলেছেন। তার এমন মন্তব্যের পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরানের সংশয় আরও গভীর হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান কখনোই ‘আত্মসমর্পণ’ করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরান ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ জন্যও প্রস্তুত।
ইরানের কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, কোনো ধরনের ‘জবরদস্তিমূলক কূটনীতি’র কাছে তেহরান নতিস্বীকার করবে না। তাদের দাবি, আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো মেনে চলতে হবে।
বিশেষ করে সমঝোতা স্মারকের ১ ও ৫ নম্বর শর্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে ইরান। ১ নম্বর শর্ত অনুযায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করে কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। আর ৫ নম্বর শর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখার এবং এ জলপথ পরিচালনায় দেশটির সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতির কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর শর্ত অনুযায়ী জ্বালানি তেল রপ্তানির অধিকার কার্যকর করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।
পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে হতাশ যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো অনিশ্চিত বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নে ইরান এখনো সফল হয়নি। ফলে দেশটির সঙ্গে নতুন করে বড় পরিসরের কোনো পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি এ বিষয়ে হতাশার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, শেষ পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব কি না।’
মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি ভূগর্ভে সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কোনো পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব হবে না।
সূত্র: আলজাজিরা