ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬ ১০:২৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৬ বার
জাতীয় সংসদ ভবনে এক অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে। কোনো রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক বা আইন পাসের ব্যস্ততা নয় বরং বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের একটি ‘সারপ্রাইজ’ উপহার ঘিরে মুখরিত ছিল গোটা সংসদ সচিবালয়।
সোমবার (২২ জুন) সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধীদলের সব সংসদ সদস্য (এমপি) থেকে শুরু করে সংসদ সচিবালয়ের সব শ্রেণির কর্মকর্তা এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কাছেও পৌঁছে যায় এই বিশেষ উপহার। প্রত্যেকের হাতে বা ডেস্কে দেওয়া হয় ১০ কেজি ওজনের একটি করে উপহারের প্যাকেট।
সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে কৌতূহল ছিল, কী আছে এই ১০ কেজির প্যাকেটে? পরে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুস্বাদু আম। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে সবার হাতে এই উপহার পৌঁছে দেন।
বাদ যায়নি কেউ
এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর সমবণ্টন। সাধারণত মন্ত্রী বা এমপি-জাতীয় ভিআইপিরাই এমন উপহার পেয়ে থাকেন।
কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই উপহারের তালিকায় ভিআইপিদের পাশাপাশি সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত সংসদ সচিবালয়ের একজন অফিস সহায়ক মাহমুদুল হাসান শাওন বলেন, আমরা ছোট চাকরি করি, বড় বড় নেতার উপহার শুধু দূর থেকেই দেখি। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে আমাদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্মানের।
প্রশংসা সরকারি দলেও
বাংলাদেশের চেনা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্পর্কের বরফ সহজে গলে না। সেখানে ড. শফিকুর রহমানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক এমপি বলেন, রাজনীতি মাঠে থাকবে, কিন্তু সংসদের ভেতরে এ ধরনের সৌজন্যতাবোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিরোধীদলীয় নেতা সব স্তরের কর্মচারীদের যেভাবে মূল্যায়ন করলেন, তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ড. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও মানবিক নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। মঙ্গলবারের এই উপহার বিতরণ কেবল কোনো বস্তুগত বিষয় নয় বরং এর মাধ্যমে তিনি সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে চলার এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে মূল্যায়নের একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিলেন।