আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মে, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার পেন্টাগন এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর কয়েকদিন আগে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হেয়’ করা হচ্ছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ধরনের মন্তব্য প্রতিকূল। প্রেসিডেন্ট যথার্থভাবেই এর প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে। একই তথ্য জানিয়েছে সিবিএস নিউজ, তারা জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েল-সমর্থিত ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইউরোপ যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না। বুধবার তিনি ইঙ্গিত দেন, যারা পর্যাপ্ত সমর্থন দিচ্ছে না, সেসব ইউরোপীয় দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাব্য হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহলকেই বিস্মিত করেছে। প্রতিবেদনে কয়েকজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও কংগ্রেসের এক সহকারীর বরাত দেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জার্মান চ্যান্সেলর মের্জেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে মের্জ ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় যারা কাজ করছে, তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন।’
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা দেখাতে অনাগ্রহী। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনায় তারা সংযত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় এই যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়ছে। এতে ইউরোপীয় দেশগুলোও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। চ্যান্সেলর মের্জ সম্প্রতি এই যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধের মতো জটিল সংঘাতের সঙ্গে তুলনা করেন।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত জটিল। এতে আমাদের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ আমাদের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।