আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মে, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২ বার
যুদ্ধ-উত্তেজনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহী ইরান। তবে এ আলোচনার জন্য তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছে—ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত হুমকিমূলক ও উত্তেজনাকর ভাষা’ পরিহার করতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা গেছে, গত শুক্রবার তুরস্ক সফরে যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সেখানে তিনি তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেন।
ওই বৈঠকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংলাপ নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
আরাগচি বলেন, ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি।
যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও হামলার পথে যায়, তাহলে তা মোকাবিলায় ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জানান, মতপার্থক্য সমাধানের পথ হিসেবে ইরান এখনো সংলাপকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তার বলেন, আমরা চাই আমাদের মতভেদগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে এজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই হুমকিমূলক ও অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর টানা সংঘাত শেষে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
এরপর ইরান সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপের জন্য একটি তিন ধাপের প্রস্তাব দেয়। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন আরেকটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি