ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার
নাটোর শহরের মল্লিকহাটি ঘোষপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে নিজ জন্মদাতা মাকে শিলপাটার শিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এক বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১১টার দিকে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম শহীদা বেগম (৫৫)। তিনি ওই এলাকার মৃত শরিফুল হুদা ওরফে স্টারের স্ত্রী।
ঘটনার পর অভিযুক্ত বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে আরিফুল হুদাকে (৩৮)-পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে আরিফুল হুদা তার মা শহীদা বেগমের ওপর চড়াও হতো।
মাঝেমধ্যে সে মায়ের কাছে টাকা-পয়সার আবদার করত। এতে দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে মায়ের ওপর হামলা চালাত এবং নির্যাতন করত।
এমনকি তার স্ত্রীর ওপরও নির্যাতন চালাত। এসব সহ্য করতে না পেরে প্রায় এক মাস আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।
এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আরিফুল এবং অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। এ অবস্থায় তাকে মাঝে মধ্যে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।
ঘটনার রাতে বাড়িতে মা ও ছেলে ছাড়া আর কেউ ছিল না। রাত ১১টার দিকে কোনো এক বিষয় নিয়ে আরিফুল তার মায়ের ওপর প্রচণ্ড রাগান্বিত হয়। একপর্যায়ে ঘরের দাওয়ায় থাকা শিলপাটার ভারী শিল দিয়ে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই শহীদা বেগমের মৃত্যু হয়।
আর্তচিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে বিষয়টি টের পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে নাটোর সদর থানায় খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত আরিফুলকে থানা হেফাজতে নেয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, আটক আরিফুল হুদা বাকপ্রতিবন্ধী হলেও সব কিছু বুঝতে পারেন। তিনি বিবাহিত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীর চলে যাওয়া এবং শিকলে বেঁধে রাখার কারণে ক্ষোভ থেকে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে পারিবারিক এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।