আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী।
স্প্ল্যাশডাউনের পর মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানিয়েছেন, তিনি ও তার তিন সঙ্গী সুস্থ আছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। খবর এএফপি ও সিএনএনের।
সমুদ্রে অবতরণের পর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেন, কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি।
চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সব নভোচারী শারীরিকভাবে ভালো আছেন।
নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল জানান, অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হবে। প্রথমে তাদের ‘ফ্রন্ট পোর্চ’ নামের ভেলায় আনা হবে, এরপর হেলিকপ্টারে করে মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’তে নেওয়া হবে।
নাসার ফ্লাইট কন্ট্রোলার জেফ রাডিগান বলেন, সমুদ্র শান্ত থাকলে এই উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।
জাহাজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নভোচারীদের বিমানে করে হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।
১০ দিনের এই চন্দ্রাভিযান শুরু হয়েছিল ১ এপ্রিল। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।
এই মিশন একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাদের সর্বোচ্চ দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের ইতিহাস গড়েছেন।
এই অভিযানে নভোচারীরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলকও প্রত্যক্ষ করেন।
আর্টেমিস-২ মিশনটি ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ পাঠানোর নাসার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ। ঐতিহাসিক এই প্রত্যাবর্তন নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।