ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ নিয়োগকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ ও দাবি জানান।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
দেশবাসী মনে করে, সদ্য গঠিত বিএনপি সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুরুতেই জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিলো।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়াই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। অথচ সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একের পর এক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত।
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার নামে সরকারের এ পদক্ষেপ আসলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অপচেষ্টা উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জনগণের ভোট ও মতামতকে উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা মনে করি, এ সিদ্ধান্ত সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে।
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়া। এর প্রথম ধাপ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকারগুলোতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সরকার দলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এটি নৈতিকভাবে অত্যন্ত গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল। এতে জনমনে গভীর সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে যে, সরকারের এ পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একইসঙ্গে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ।
অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুত জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।