ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

১৮০ দিনে দৃশ্যমান হবে হাজার কিলোমিটার খাল

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার


১৮০ দিনে দৃশ্যমান হবে হাজার কিলোমিটার খাল

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচি একটি বিপ্লব, একটি আন্দোলন। যা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর আগে।

এটি আমাদের সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম। যা সরকারের একটি চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে আন্তমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

আগামী পাঁচ বছরে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে আমরা ১ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ দৃশ্যমান করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

 

গতকাল প্রশ্নকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবং দলের মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব।

 

প্রশ্ন : আপনার মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ কোনটি? বিশেষ করে ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন?

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি : আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা খাল খনন কর্মসূচিটাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছি। এর পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ অভিযানও থাকবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ খালগুলোর জন্য পাঁচ বছরের যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, তা একা এ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়; তাই এর সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা ও সমন্বয় থাকবে। এ লক্ষ্যে আমরা আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছি।

১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে আমরা ১ হাজার কিলোমিটার খাল দৃশ্যমান করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এটি একটি চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে সমন্বয়ের মাধ্যমে করা হবে এবং আগামী ৫ বছরে মোট ১৯ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

 

প্রশ্ন : বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা কী?
 

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি : খালের দুই পাড়, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প, স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাস্তার ধারে আমরা বৃক্ষরোপণ করব। প্রতি বছর ৫ কোটি করে ৫ বছরে মোট ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ হলেও অন্যান্য মন্ত্রণালয় এখানে সমন্বয় করবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজ থেকে প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে এ ধরনের একটি বিপ্লব বা আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে স্বনির্ভর এবং প্রতিটি মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করতে চেয়েছিলেন। খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, মাছ চাষ বাড়বে এবং বাজারে মাছের দাম স্থিতিশীল থাকবে। খালের পানি সেচের কাজে ব্যবহার করে উৎপাদন দ্বিগুণ করা যাবে, যা আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে এবং উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করা যাবে। অতীতে খাল দখল, বর্জ্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাধার কারণে এ কাজগুলো ব্যাহত হয়েছিল। এজন্য ‘সফল খাল খননের জন্য অনেক জায়গাতেই দখলদার উচ্ছেদ ও স্থানীয় সমর্থন জরুরি।

 

প্রশ্ন : আপনাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অন্যান্য বিষয় যেমন ৩১ দফা বা বিভিন্ন কার্ড (ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড) সম্পর্কে কিছু বলবেন?
 

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি : যেহেতু আমি খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাই আমি এগুলো নিয়েই বক্তব্য রাখলাম। কার্ড-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ, তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেব ভালো বলতে পারবেন।

প্রশ্ন : আপনার এলাকা লক্ষ্মীপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আপনার অবস্থান কী? সম্প্রতি আপনি এক বক্তব্যে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি : দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি এবং স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছি যে, আর কোনো চাঁদাবাজি হবে না। লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য হিসেবে আমি এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ আছি। অন্ধকার যুগ থেকে আলোর পথে যাওয়ার সব চ্যালেঞ্জ আমরা ফেস করব।

প্রশ্ন : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস সাহেবের নেতৃত্বে যে কমিটি হয়েছে, তা কি আপনার মন্ত্রণালয়ের অধীনে?

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি : হ্যাঁ, তিনি উপদেষ্টা হিসেবে এটি দেখাশোনা করবেন। এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনা করছি।

প্রশ্ন : আপনার মন্ত্রণালয়ের মূল কাজগুলো কী? সেগুলোকে কীভাবে হাইলাইট করবেন?

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি : আমাদের মন্ত্রণালয় অনেক বড়, তবে ১৮০ দিনের জন্য সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো খাল খনন। এর পাশাপাশি বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন এবং হাওড় অঞ্চলের সেচ প্রকল্পগুলো ধারাবাহিকভাবে করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচির সঙ্গে আরেকটি বিষয় জড়িত। সেটি হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা না হলে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না হলে খাল খনন প্রকল্পের শতভাগ সুবিধা আদায় সম্ভব হবে না।

প্রশ্ন : খাল খননের বিষয়ে জনগণের প্রতি আপনার কোনো বিশেষ আহ্বান আছে কি?
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি : এ কাজগুলো সফল করতে সাধারণ মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা খুবই জরুরি। শহীদ জিয়া যেভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে খাল খনন করেছিলেন, আমরাও আধুনিক যুগে সবাইকে যুক্ত করে একটি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এটি এগিয়ে নিয়ে যাব। যেখানে যেভাবে প্রয়োজন; কোথাও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে, আবার কোথাও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। ইনশাআল্লাহ, দেশবাসীর সহযোগিতায় আমরা এই বড় দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হব।
 

সৌজন্যে: বাংলাদেশ প্রতিদিন


   আরও সংবাদ