ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২০:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৭ বার
পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। সপ্তাহ ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচামরিচ, ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, খেজুর, ডাল ও বেসনসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়া। তবে আলু আগের দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভোক্তারা বলছেন প্রতি বছরই রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও তালতলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
তালতলা বাজারে নিয়মিত বাজার করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শওকত হোসেন শাওন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, রমজান এলেই বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যায়, এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। দু’দিন আগেও দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে বিক্রি হলেও আজ সেটা ১৬০ টাকা কেজি আর হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি, এটা এই সময়ে মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসব বাজারে শীতকালীন সবজি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৭০ টাকা, বড় সাইজের ফুল কপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধা কপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুর লতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা কেজিতে ৮০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ঢেঁড়স ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১৬০ টাকা ও খিরাই ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজারগুলোতে লেবুর দামে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। এক হালি লেবু ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনে পাতা ১৫০ টাকা ও হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ১০০ কেজি, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস।
তবে ক্যাপসিকামের দাম কমে ১২০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে লাল শাকের আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাকের ২ আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, ডাটা শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে নতুন আলু ২০ টাকা, পুরোনো দেশি পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৮০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা ও পেঁয়াজ কলি ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে সোনালি কক মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৩০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩১০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১০০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকায়, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ৭৭০ থেকে ৮০০ টাকায়, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, চায়না আদা ২৪০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৭০-১৮০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১০০ টাকা, অ্যাংকরের বেসন ১০০ টাকা এবং বুটের ডালের বেসন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে ১০ টাকা কমে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।